শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

তাইওয়ানকে একত্র হতেই হবে

চীন-তাইওয়ান চলমান উত্তেজনার পারদ আরেক দফা চড়িয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বলেছেন, তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ‘শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ’ সম্ভব এবং তা হতেই হবে। অন্য দিকে প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ান বলেছে, ভূখণ্ডটির ভবিষ্যৎ কী হবে তা এর জনগণই ঠিক করবে।

চীনা বিপ্লবের ১১০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শি চিনপিং বলেন, চীন ও তাইওয়ানের শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন উভয় পক্ষের জনগণের সামগ্রিক সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি আরো বলেন, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তাইওয়ানের স্বাধীনতা। এটি মারাত্মক এক বিপদ।

চীনা প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তাইওয়ানে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে দেন।

আজ রবিবার তাইওয়ানের জাতীয় দিবস। দিবসটি সামনে রেখে চীনা নেতার ওই বক্তব্যকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

কিছুদিন ধরেই তাইওয়ানের আকাশসীমায় চীনের ব্যাপকসংখ্যক যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশ ঘটছে। রেকর্ডসংখ্যক অনুপ্রবেশের ঘটনার কয়েক দিন পর শি চিনপিং এ বক্তব্য দিলেন। তিনি অবশ্য বলেছেন, পুনরেকত্রীকরণ শান্তিপূর্ণভাবে হওয়া উচিত। তাঁর এ বক্তব্যের পাশাপাশি একত্রীকরণে তাইওয়ানের ওপর জোর প্রয়োগের সম্ভাবনাও বাতিল করেনি চীন।

পশ্চিমা গণতান্ত্রিক কায়দায় শাসিত তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। আর চীন মনে করে, এটি তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া একটি প্রদেশ। চীনের মূল ভূখণ্ডে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানে চলে যান। তখন থেকেই তাইওয়ান ভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে চলছে। তবে স্বশাসিত তাইওয়ান কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করেনি।

গত জুলাইয়ে শি চিনপিং আরো কঠোর ভাষায় তাইওয়ানকে সতর্ক করেছিলেন। তখন তিনি বলেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হওয়ার যেকোনো ধরনের চেষ্টা ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী তাইওয়ানের সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক পেন্টাগন কর্মকর্তা। এ রকম প্রেক্ষাপটে চীনা প্রেসিডেন্ট এ সতর্কবার্তা দিলেন।

শি চিনপিং বলেন, তাইওয়ান ইস্যু পুরোপুরিভাবে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে বাইরের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। ২০১৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে সাই ইং-ওয়েন তাইওয়ানের ক্ষমতায় আসার পর চীন তাইপের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। কারণ সাই ইং-ওয়েন দ্বীপটিকে আগে থেকেই স্বাধীন বলে মনে করেন। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত বুধবার বলেন, চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com